ইতালিতে বাংলাদেশি দম্পতি ও শিশুকন্যা হত্যা: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার অভিযোগ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৮ জুন ২০২৬ ০২:৫০ অপরাহ্ণ   |   ৪৮ বার পঠিত
ইতালিতে বাংলাদেশি দম্পতি ও শিশুকন্যা হত্যা: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক:


 

ইতালির রাজধানী রোমে এক বাংলাদেশি দম্পতি ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দম্পতির ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ইতালীয় পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
 

শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে।
 

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোরা ইসলাম আরিশা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আরাফাত হোসেন অয়ন।
 

স্থানীয়দের দাবি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে নিহত বাবুলের পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে বাবুলের স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজুর সঙ্গে শাহাদাতের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে শাহাদাত হোসেন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ইংল্যান্ডে যান। সেখানে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং একটি মামলায় কারাভোগের পর তিনি প্রায় দুই বছর আগে ইতালিতে চলে যান। পরে রোমে বাবুলের বাসার পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পুনরায় ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 

নিহত বাবুলের জেঠাতো ভাই ও ঢাকার জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ সুমন জানান, ঘটনার দিন রাতে একটি পার্কে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাবুল বাসায় ফিরে গেলে অভিযুক্ত শাহাদাত অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় ছেলে অয়ন বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যান।
 

ইউনুছ সুমন আরও অভিযোগ করেন, শাহাদাত অতীতেও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি জানান, ইতালির রোম পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করা হয়েছে।
 

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সামছুদ্দিন হায়দার জানান, প্রায় চার বছর আগে শাহাদাত বিদেশে চলে যাওয়ার পর তাকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
 

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানও বলেন, শাহাদাত বর্তমানে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বিদেশে চলে যাওয়ার পরই তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
 

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানতে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।