সংসদে ধর্মমন্ত্রী: দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৫ জুন ২০২৬ ০৬:০৫ অপরাহ্ণ   |   ৫৭ বার পঠিত
সংসদে ধর্মমন্ত্রী: দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই

ঢাক প্রেস প্রতিবেদক

 

দেশে বর্তমানে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সরকারের কাছে নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তবে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশে ৩ লাখ ৩১ হাজার ১২৫টি মসজিদ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই হিসাবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ জন হতে পারে।
 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
 

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে ১২ হাজার ৮১০ জন এই ভাতার আওতায় রয়েছেন।
 

একই অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অ-তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি তালিকাভুক্ত করা, আদালতে মামলা দায়ের এবং ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৬৪ ধারার আওতায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব। গত এক বছরে ১৫১ দশমিক ১৭৯৫ একর ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
 

তবে গত এক বছরে কতটুকু সরকারি তালিকাভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেবোত্তর সম্পত্তি বাস্তবে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি ধর্মমন্ত্রী।
 

হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা দেশে ৭ হাজার ৪০০টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরোহিত-সেবাইত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে এ ধরনের কোনো প্রকল্প না থাকায় অনুরূপ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
 

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় দেশে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪২টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং ১৮৬টির কাজ চলমান রয়েছে।
 

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষকদের মাসিক সম্মানী বর্তমানে ৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী ধাপে ধাপে তা বৃদ্ধি করে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হবে।
 

অন্যদিকে, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে হজ পালনকারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮ হাজার ৬০০ জন কমেছে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন।