এ পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগের দিন বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের আগে সভাপতিত্ব করবেন কে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তিনি কোনো কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করতে পারেন। পরবর্তীতে তাঁর সভাপতিত্বেই সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
সংসদের শীর্ষ দুটি পদে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসাতে চায় বিএনপি। স্পিকার পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন ড. মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন।
দলের একাধিক হুইপ জানিয়েছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচিত হবেন—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেবেন। সংসদ পরিচালনায় অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই এ দুই পদে নির্বাচন করা হতে পারে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান বিষয়ে দক্ষতার কারণে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জামায়াত থেকে কেউ এই পদে না এলে প্রথম দিনই দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করবে বিএনপি। এ পদটির জন্যও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
দুজন সংসদ সদস্য এখনও শপথের বাইরে
নির্বাচনে বিজয়ী হলেও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ও মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া এখনও অনিশ্চিত। আদালতের সিদ্ধান্তে তাদের নির্বাচনী ফল স্থগিত থাকায় তারা প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না।
ঋণখেলাপির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আদালত তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও প্রার্থিতা বৈধ ছিল কিনা—তা আপিল বিভাগে মামলার নিষ্পত্তির পর জানা যাবে। যদি ঋণখেলাপি প্রমাণিত হয়, তবে শপথ নেওয়ার আগেই তারা পদ হারাবেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিতে পারবেন।
এদিকে সোমবার সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সব সংসদ সদস্যকে সংসদীয় দলের সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।