চাপের মুখে দুই যুগ পর ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সিন্ডিকেটের কারণে ২৪ বছর হয়নি কোনো নির্বাচন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৫ অপরাহ্ণ   |   ৬১ বার পঠিত
চাপের মুখে দুই যুগ পর ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সিন্ডিকেটের কারণে ২৪ বছর হয়নি কোনো নির্বাচন

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর:

 

প্রায় দুই যুগ পর ম্যানেজিং কমিটির প্রথার খোলস ভেঙে কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।


আগামী ১২ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।


সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ বছর ধরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের কতিপয় ব্যক্তি ও কলেজ প্রতিষ্ঠাতার ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। তাদের প্রভাবেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো নির্বাচন ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে অভিভাবক সদস্য মনোনীত করা হয়ে আসছে।


অভিযোগ রয়েছে, যারা অর্থের বিনিময়ে অভিভাবক সদস্য হয়েছেন, তাদের অনেকেই  কলেজ সুপার মার্কেট ও কলেজ মার্কেট থেকে অন্তত একটি করে দোকান  ভিটা নিজেদের নামে  নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার একাধিক ভিটার মালিকও হয়েছেন।


সাবেক কয়েকজন অভিভাবক সদস্যের সূত্রে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তারা অভিভাবক সদস্য হয়েছেন। কলেজ মার্কেট নির্মাণের পর যারা অভিভাবক সদস্য হয়েছেন, তাদের প্রায় সবাই ভিটা পেয়েছেন। এখনো আবার  অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজিং কমিটির  অভিভাবক সদস্য করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনজন অভিভাবক সদস্য ঘোষণাও করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এদের মধ্যে ছিলো আলমাস মেম্বার, গোলাম মোস্তফা ও মনির হোসেন।  


বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কলেজর শিক্ষার্থী, স্হানীয়  যুবসমাজ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। তীব্র প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত নির্বাচন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।


রবিবার (৮ মার্চ) কলেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণার জন্য মাত্র তিন দিন সময় পাচ্ছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের পর  সর্বশেষ ২০০২ সালে কলেজটিতে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। প্রতি বছরই একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।


দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীরাও স্বল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


নির্বাচনের বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ১২ তারিখ যথাযথ নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৮ জন প্রার্থীকে ব্যালট নাম্বার দেওয়া হয়েছে। ৯ টাকা বিনিময়ে ম্যানেজ কমিটির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।