ইবি শিক্ষক আসমা সাদিয়া হত্যা: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ মার্চ ২০২৬ ০২:৪৪ অপরাহ্ণ   |   ৪০ বার পঠিত
ইবি শিক্ষক আসমা সাদিয়া হত্যা: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
 

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
 

গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে।
 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খান। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
 

তদন্ত কমিটির সদস্য-সচিব গোলাম মওলা জানান, তিনি ইতোমধ্যে চিঠি পেয়েছেন এবং আহ্বায়কের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। শিগগিরই কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
 

কমিটির আহ্বায়ক ড. মিজানুর রহমান বলেন, আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ বিষয়ে প্রথম বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং সদস্য-সচিবকে কমিটির সদস্যদের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

এর আগে গত ৪ মার্চ বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে একই কক্ষে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
 

ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়।
 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান প্রধান অভিযুক্ত ফজলুর রহমানসহ চারজনকে আসামি করে ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।
 

পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তিনি আহত থাকায় বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।