দেশে বিনোদনের সংকট রয়েছে, সংস্কৃতি চর্চা বাড়ানোর আহ্বান আসিফ আকবরের

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৭ জুন ২০২৬ ০৩:১৬ অপরাহ্ণ   |   ৪৩ বার পঠিত
দেশে বিনোদনের সংকট রয়েছে, সংস্কৃতি চর্চা বাড়ানোর আহ্বান আসিফ আকবরের

বিনোদন ডেস্ক



দেশে মানুষের বিনোদনের সুযোগ বাড়ানো এবং সংস্কৃতি চর্চার প্রসারে গুরুত্বারোপ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি মনে করেন, জনবহুল বাংলাদেশে বিনোদনকে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন এবং সুস্থ সমাজ গঠনে বিনোদনের বিকল্প নেই।
 

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দেশের বিনোদন সংকট, সংস্কৃতি চর্চা, সংগীতের বিকাশ এবং শিশুদের মানসিক উন্নয়নে বিনোদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এই সংগীতশিল্পী।
 

স্ট্যাটাসে আসিফ আকবর বলেন, দেশে মানুষের বিনোদনের সুযোগ খুবই সীমিত। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশে বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার মতে, বিনোদনের অভাব মানুষের মধ্যে হতাশা, জিঘাংসা ও সহিংসতা বাড়াতে পারে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মননশীলতা বিকাশের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
 

তিনি দেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। আসিফের দাবি, ১৯৭৯-৮০ সালে চট্টগ্রামের সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে বৈঠকে জিয়াউর রহমান দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্র চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এসব যন্ত্র আমদানির ওপর কর প্রত্যাহার করেন। এর ফলেই নব্বইয়ের দশকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে।
 

বর্তমান বাজেটে পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের ওপর পূর্বে আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সংগীতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে বাস্তব বাদ্যযন্ত্র চর্চা দেশের সংগীতের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
 

বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আসিফ বলেন, পিছিয়ে না থেকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি শিশুদের বিনোদনকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে সারা দেশে পরিকল্পিত ও টেকসই সাংস্কৃতিক বিপ্লব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
 

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন অনেক নেটিজেন। তারা সুস্থ ধারার বিনোদন ও সংস্কৃতি চর্চা সম্প্রসারণের পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি সামনে আনার জন্য জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন অনেকে।