ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ মার্চ ২০২৬ ০৩:২৫ অপরাহ্ণ   |   ৪০ বার পঠিত
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন মৃত্যু আর ধ্বংসের বারুদে ধূসর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত আজ বুধবার এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করেছে। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে ইসরায়েলের তেল আবিব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন একে অপরের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু।  

 

একদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার খবর, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক মহাপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

 

ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মাত্র তিন দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। আজ বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেছেন যে, মোজতবা খামেনি যুদ্ধকালীন অভিযানে আহত হয়েছেন।

 

যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাঁকে ‘রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেছে, তবে তাঁর আঘাতের প্রকৃতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি, যুদ্ধের প্রথম দিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি জখম হন। বর্তমানে তিনি একটি নিরাপদ স্থানে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর এই জখম হওয়ার খবর ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর মনোবলে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

 

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এখন ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান এই জলপথে মাইন বসাতে শুরু করেছে। যদিও মাইন বসানোর কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে ইরানের হাতে থাকা শত শত ক্ষুদ্র মাইন স্থাপনকারী নৌযান যে কোনো সময় এই পথটিকে সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দিতে পারে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক কঠোর বার্তায় বলেছেন, “ইরান যদি মাইন বসিয়ে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় তাদের নজিরবিহীন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।” 

 

ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে। পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ‘সন্ত্রাসীদের’ হাতে জিম্মি হতে দেবে না।

 

গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত তেহরানে যা ঘটেছে, তাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা ‘নারকীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, গতকাল ছিল এই যুদ্ধের সবচেয়ে বিধ্বংসী দিন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।

 

তেহরানের আজাদি টাওয়ারের পাশে বিমান হামলা এবং মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিশাল বিস্ফোরণের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত উড়োজাহাজ আর ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আচ্ছন্ন বিমানবন্দরের আকাশ। 

 

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান জানিয়েছেন, আবাসিক এলাকা ছাড়াও বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

 

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অভিযান শুরু করেছে। বুধবার ভোররাত থেকে ইরান হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের রকেট ছুড়েছে।

 

কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তানে আল-হারির ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

 

আবুধাবির আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

 

তেল আবিব, হাইফা ও পশ্চিম জেরুজালেমের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে পুরো দেশ।