শিশু আয়াতকে ৬ টুকরো করে হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৭ জুন ২০২৬ ০২:৪৪ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
শিশু আয়াতকে ৬ টুকরো করে হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং মরদেহ ছয় টুকরো করার লোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি মো. আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

 

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীর আলী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, ‘আসামি আবীর আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হ‌ওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।’

 

তিনি আরও জানান, আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ‘এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী, যা ক্রাইম পেট্রোল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে করা হয়েছে।’

 

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ এই রায় দিলেন।

 

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়।

 

এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

 

তদন্তে উঠে আসে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন তাদেরই বাসার ভাড়াটে মো. আবির।

 

পরবর্তীতে চেনা চেনা লাগায় পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার ভয়ে আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং প্রমাণ লোপাট করতে মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

 

২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর আবীরকে গ্রেপ্তারের পর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

 

অভিযোগপত্রে আবীরের পাশাপাশি তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকেও আসামি করা হয়, তবে সে বয়সে কিশোর হওয়ায় তার অংশটি আলাদাভাবে শিশু আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।