দুটি নেতাকে অব্যাহতি দিল এনসিপি, ‘অপহরণ নাটক’ ঘিরে তোলপাড়

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ জুন ২০২৬ ০১:৫৫ অপরাহ্ণ   |   ৩৪ বার পঠিত
দুটি নেতাকে অব্যাহতি দিল এনসিপি, ‘অপহরণ নাটক’ ঘিরে তোলপাড়

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

 

মৌলভীবাজারে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতাকে সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে এক নেতাকে ‘অপহরণের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
 

জানা গেছে, শুক্রবার এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সংগঠক সারজিস আলম মৌলভীবাজারের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব কামরুল হাসান এবং জুলাই আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অশোভন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
 

পরে একই রাতে জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নির্দেশে ওই দুই নেতাকে দলের সব সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিলেট বিভাগীয় সংগঠক এতেহশাম হকের কাছে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ থাকা আব্দুল্লাহ আল হুসাইন শ্রীমঙ্গল থানায় গিয়ে আইনগত সহায়তা চান।
 

শ্রীমঙ্গল থানা সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন যে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদ নামে একজনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে গলায় ছুরি ধরে একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
 

আব্দুল্লাহ আল হুসাইন দাবি করেন, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
 

তবে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ বলেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে দুই নেতাকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনাকে আড়াল করতেই অপহরণের নাটক সাজানোর চেষ্টা হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

অন্যদিকে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এনসিপির কোনো নেতার অপহরণের বিষয়ে তাদের থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।