স্বাস্থ্যসেবায় ১০ হাজার কমিউনিটি প্যারামেডিককে যুক্ত করার আহ্বান

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ জুন ২০২৬ ০১:০৪ অপরাহ্ণ   |   ৩৮ বার পঠিত
স্বাস্থ্যসেবায় ১০ হাজার কমিউনিটি প্যারামেডিককে যুক্ত করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

দেশে স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত কমিউনিটি প্যারামেডিককে (সিপি) সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, নতুন জনবল তৈরির পরিবর্তে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষিত এই কর্মীদের সরকারি স্বীকৃতি ও নীতিমালার আওতায় এনে কাজে লাগানো হলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
 

রাজধানীর ফার্স হোটেলে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ‘পলিসি ডায়ালগ অন কানেকটিং কমিউনিটিজ টু দ্য হেলথ সিস্টেম: দ্য রোল অব কমিউনিটি প্যারামেডিকস’ শীর্ষক আলোচনায় এসব মতামত উঠে আসে। সুইস কন্ট্যাক্ট বাংলাদেশ-এর ‘আস্থা’ প্রকল্পের উদ্যোগে এবং ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগিতায় এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
 

আলোচনায় জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য গড়ে ৪৪ দশমিক ৫ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে এ সংখ্যা মাত্র ৭ দশমিক ৩। গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ৩২ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবাদাতা কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
 

এই সংকট মোকাবিলায় ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) অধীনে দুই বছর মেয়াদি কমিউনিটি প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ৫৬টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১০ হাজারের বেশি কমিউনিটি প্যারামেডিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তবে নীতিমালার অভাব এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
 

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গর্ভস্থ শিশুর হৃৎস্পন্দন শনাক্তকরণে কমিউনিটি প্যারামেডিকদের সফলতার হার ৭৩ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য সেবাদাতার হার ৩৬ শতাংশ। গর্ভধারণ পরীক্ষায় তাদের সফলতা ৮১ শতাংশ, অন্যদের ক্ষেত্রে যা ৪৬ শতাংশ। রক্ত পরীক্ষায় কমিউনিটি প্যারামেডিকদের সফলতার হার ৫৭ শতাংশ, অন্যদের ৩৩ শতাংশ। এছাড়া সংকটাপন্ন রোগীদের যথাসময়ে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করার ক্ষেত্রে তাদের সফলতার হার ৯৪ শতাংশ বলে জানানো হয়।
 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কমিউনিটি প্যারামেডিকদের দক্ষতার কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় কমছে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ছে।
 

আস্থা প্রকল্পের টিম লিডার আবদুল আউয়াল বলেন, গত ১৫ বছরে কমিউনিটি প্যারামেডিক তৈরিতে যে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার সুফল এখন দৃশ্যমান। তাই তাদের সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার সময় এসেছে।
 

কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. আবু মুহাম্মদ জাকির হুসাইন বলেন, কমিউনিটি প্যারামেডিকরা গ্রামীণ জনগণ ও সরকারি হাসপাতালের মধ্যে কার্যকর সংযোগ হিসেবে কাজ করছেন। তাদের সরকারি স্বাস্থ্য কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা গেলে রেফারেল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
 

ব্র্যাকের অধ্যাপক ডা. কাওসার আফসানা বলেন, সরকার ভবিষ্যতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশিক্ষিত ১০ হাজার কমিউনিটি প্যারামেডিককে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে।