নির্বাচনের আগে যাদের ক্ষমা চাইতে হয়, তারা সফল নয়

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৫৪ অপরাহ্ণ   |   ৫৬ বার পঠিত
নির্বাচনের আগে যাদের ক্ষমা চাইতে হয়, তারা সফল নয়

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নির্বাচনের আগে যাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে সফল নয়। তাঁর দাবি, জনগণ বিভ্রান্ত হয়নি বলেই ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চব্বিশতম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন। 

মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অনেক সময় কোন বিধিতে কী বলতে হবে বা কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন না। বিরোধী দলকে আরও দক্ষ ও পরিপক্ব করতে প্রধানমন্ত্রী চাইলে কর্মশালা আয়োজন কিংবা ঘনিষ্ঠভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন, যা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদ নেতা নিয়মিতভাবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এবং তার নেতৃত্বে সরকারি দলের সদস্যরা অভিজ্ঞ হয়ে উঠছেন। তবে সংসদ নেতা পুরো সংসদেরও নেতা হওয়ায় বিষয়টি শুধু সরকারি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সংসদের মর্যাদা পূর্ণভাবে বিকশিত হবে না।

ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রেখেছেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব, সংসদীয় সরকারব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা বিকাশে তার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। 

তিনি আরও দাবি করেন, তারেক রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে একটি গণআন্দোলনের সফল পরিণতি হয়েছে এবং বর্তমান সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। তার ভাষায়, গত সতের বছরে অসংখ্য নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, বহুজন শহীদ হয়েছেন এবং অনেকেই বিভিন্ন দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বহু মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, কয়েকবার কারাবরণ করেছেন এবং রিমান্ডেও ছিলেন। এমনকি গুম হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেষে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল অতীতে কখনো ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় না এলেও তাদের রাজনৈতিক ক্ষোভ থাকতে পারে। তিনি জনগণের রায়কে শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করে বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত না করে রাজনীতি শিখে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা উচিত।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দেশ আরও এগিয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।