রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় এক কসমেটিকস ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিতভাবে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পৈয়াপাথর গ্রামের বাসিন্দা ও কসমেটিকস ব্যবসায়ী মো. অলি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করতেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই বছর আগে এলাকার তরুণদের উদ্যোগে “পৈয়াপাথর সমাজকল্যাণ পরিষদ” নামে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। সংগঠনটির সদস্য হিসেবে অলি এলাকায় মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। এর জেরে স্থানীয় কয়েকজন কথিত মাদক কারবারির সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এলাকার কথিত মাদক কারবারি আনোয়ার ও তার স্ত্রী লিমা সোর্স সোহাগের সহযোগিতায় অলির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬৯ পিস ইয়াবা রেখে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়। পরে ঘটনাটিকে মাদক উদ্ধারের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় অলি প্রায় দেড় মাস কারাভোগ করার পর জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে স্থানীয়রা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। তাদের অনুসন্ধানে ঘটনাটির পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর পৈয়াপাথর গ্রামে অনুষ্ঠিত এক সামাজিক বৈঠকে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে কথিত সোর্স সোহাগ ঘটনাটির বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন। একই বৈঠকে অভিযুক্ত আনোয়ারও ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন এবং একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বলে উপস্থিতরা জানান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে পৈয়াপাথর গ্রামে শতাধিক এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে বক্তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবিলম্বে মো. অলিকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে যদি কাউকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়, তবে সমাজে মাদকবিরোধী আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাবে।
তারা আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে হয়রানির ঘটনা নয়, বরং মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগকে দুর্বল করার একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।