ভাগ্য বদলের আশায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে সৌদি আরবে যান কুড়িগ্রামের এক নারী। সেখানে গৃহকর্তার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। পরে জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেন রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসে। দুই মাস পর তিনি দেশে ফেরেন। ফিরে আসা রংপুরের এক নারী জানিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর অভাবের কারণে তিনি সৌদি আরবে যান। যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানে শুধু বাড়ির লোক নয়, বাইরে থেকে আসা পুরুষরাও নির্যাতন করতেন। প্রতিবাদ করায় তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যশোরের এক নারী জানান, গৃহকর্তা, তাঁর ছেলে, এমনকি ছেলের বন্ধুরাও তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন।
সংসারে সচ্ছলতার আশায় বিদেশে গিয়ে স্বপ্নভঙ্গের এমন ঘটনা এখন নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে বাংলাদেশি নারী অভিবাসীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি হয়রানি, নিপীড়নসহ নানা সংকট নিয়ে ফেরত আসার সংখ্যাও কমেনি। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ লাখের বেশি নারী বিদেশে কাজ করছেন। তবে তাদের মধ্যে কতজন ফিরেছেন, এর সঠিক তথ্য নেই। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য বলছে, সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন। তাদের বেশির ভাগই নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া অন্তত ৮০০ নারীর লাশ দেশে এসেছে।