কীর্তিমানের আলো ও মেধার সম্মান: রাজধানীতে চট্টগ্রাম সমিতির মহা-মিলনমেলা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ   |   ৪৬ বার পঠিত
কীর্তিমানের আলো ও মেধার সম্মান: রাজধানীতে চট্টগ্রাম সমিতির মহা-মিলনমেলা

রাজধানীতে চট্টগ্রাম সমিতির বর্ণাঢ্য আয়োজন-জাতীয় পদকপ্রাপ্ত গুণীজনদের সংবর্ধনা ও ৩৩ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

আবদুল হাকিম রানা, ঢাকা প্রেস:

 

জাতীয় জীবনে শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহত্তর চট্টগ্রামের কৃতী সন্তানদের এক মঞ্চে স্মরণ ও সংবর্ধনা জানিয়েছে ‘চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা’। একইসঙ্গে অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাবৃত্তি।

 

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ সমিতির নিজস্ব ভবন মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুণীজন সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান সম্পন্ন হয়।

 

চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোঃ হাবিবুল গণি।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি মোঃ হাবিবুল গণি বলেন, “যে জাতি গুণীজনদের কদর করতে জানে না, সেখানে গুণী মানুষ জন্মায় না। চট্টগ্রাম সবসময়ই সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জাতীয় রাজনীতিতে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। গুণীজনদের এই সম্মাননা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।”

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, হাসপাতাল কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জামাল, সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এবং সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

 

স্মরণ করা হলো যাদের:

আলোচনা পর্ব শেষে প্রধান অতিথি ও সমিতির বরেণ্য নেতৃবৃন্দ সংবর্ধিত গুণীজন ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

 

স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর): প্রখ্যাত সমাজসেবক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম এবং আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের অগ্রদূত নভেরা আহমেদ।

স্বাধীনতা পুরস্কার: ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।

একুশে পদক (মরণোত্তর): উপমহাদেশের কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু, শাস্ত্রীয় সংগীতসাধক ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া এবং সমাজসেবী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার: বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক ও ডিন অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান।

মেধাবীদের হাতে বৃত্তির চেক:

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ২০২৩-২০২৪ এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ৩৩ জন আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

 

সমিতির নেতৃবৃন্দ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, চট্টগ্রামের কৃতি সন্তানদের কল্যাণ ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার এ ধরনের সেবামূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।