তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বন্যা ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে একমত ঢাকা-বেইজিং

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৫ জুন ২০২৬ ০৩:৩৮ অপরাহ্ণ   |   ৩৮ বার পঠিত
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বন্যা ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে একমত ঢাকা-বেইজিং

ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক

 

বেইজিং, ২৫ জুন: তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা এবং বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলাসহ পানি সম্পদ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
 

বৈঠক শেষে স্থানীয় সময় দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, দুই দেশ নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নৌ-নেভিগেশন সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছে। এ সময় চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
 

মাহদী আমিন আরও জানান, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের ‘পার্টি-টু-পার্টি’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
 

চীনা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনসম্পৃক্ত সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বিএনপি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
 

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিংয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে ১৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
 

মাহদী আমিন জানান, শুক্রবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে।
 

রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি, রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন এবং রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এগিয়ে নেওয়া, চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 

বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ জন মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন।
 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের ১৫ দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান, উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম, সুজন মাহমুদসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।