পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গুরুতর অপরাধের ঘটনায় এটি দ্বিতীয় এনকাউন্টারের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটা থানা এলাকায় ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। গত রোববার সকালে স্থানীয় একটি বাড়ির পেছন থেকে তার অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, আগের রাতে তিনি মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে তার মেয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছিল। একপর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রোববার সকালে বাড়ির পেছন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রহ্লাদ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলে গাইঘাটা থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রহ্লাদ নিহত কিশোরীর আত্মীয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রহ্লাদকে অপরাধস্থলে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে রিভলভার ছিনিয়ে নেন এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত তিন রাউন্ড গুলি চালান। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে তিনি রাস্তার পাশের একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেন।
পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও আত্মরক্ষার্থে অপর এক কর্মকর্তা চার রাউন্ড গুলি চালান। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রহ্লাদ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রহ্লাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গাইঘাটার স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্বস্তি প্রকাশ করেছে নিহত কিশোরীর পরিবারও। এদিকে ঘটনাস্থলের বৈদ্যবাড়ি সড়কের সংশ্লিষ্ট অংশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেও পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বলে জানা যায়। তিন মাসের ব্যবধানে গাইঘাটায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
বারুইপুরের ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। নারী সুরক্ষায় তার সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
সে সময় পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ধর্ষকদের সকালে জমা করব ও বিকেলে খরচ করব। উত্তর প্রদেশ পারলে, আসাম পারলে, মহারাষ্ট্র পারলে, ওড়িশা পারলে আমরাও পারব।’