মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে প্রায় ৯ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন আয়োজন না করে ‘সিলেকশন’ পদ্ধতিতে তিনজন প্রার্থীকে নির্বাচিত দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পদে মোট ১০ জন প্রার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনজন নির্দিষ্ট প্রার্থীকে বিজয়ী দেখাতে গোপনে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। নির্বাচন এড়াতে বাকি ছয়জন প্রার্থীকে প্রত্যেককে প্রায় ১ লাখ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে তারা নির্বাচন না চেয়ে ‘সিলেকশন’ পদ্ধতিতে সমর্থন দেন।
তবে এ প্রক্রিয়ায় একমাত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বাবু (গুঞ্জর) টাকা গ্রহণে অসম্মতি জানান এবং সরাসরি নির্বাচনের দাবি তোলেন। তার অবস্থানের কারণে বিষয়টি ধীরে ধীরে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
অভিযোগটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ‘সিলেকশন’ পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, “টাকা-পয়সার লেনদেনের বিষয়টি কলেজের বাইরে হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সিলেকশনের বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে এ ধরনের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিক্ষাঙ্গনের সুশাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, পুনঃনির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ম্যানেজিং কমিটি গঠিত হবে।