সংসদে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি রুমিন ফারহানার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০২:০৫ অপরাহ্ণ   |   ২৮ বার পঠিত
সংসদে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি রুমিন ফারহানার

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি চুক্তিটিকে দেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন এবং প্রয়োজন হলে তা বাতিলের আহ্বান জানান।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি ঘাটতি, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানি, এবং বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সংস্কারের বিষয় উঠে আসে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তিতে করা এই চুক্তি বাস্তবে দেশের জন্য কতটা লাভজনক। বিশেষ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওই সময় সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি এমন চুক্তি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি করার নৈতিক অবস্থান থাকে না। তবে এসব মতামত উপেক্ষা করেই চুক্তিটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির কিছু ধারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন জরুরি বলেও মত দেন তিনি।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে জানান, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। কার্যপ্রণালি বিধির ৩০১ ধারা অনুযায়ী, পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদের চলমান কার্যক্রম বা শৃঙ্খলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে হবে।

স্পিকার বলেন, রুমিন ফারহানা একটি নতুন ও নীতিগত বিষয় উত্থাপন করেছেন, যা পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

জবাবে রুমিন ফারহানা আরও সময় চেয়ে বলেন, সরকার চাইলে চুক্তিটি বাতিল করতে পারে এবং অন্তত এটি সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। তবে স্পিকার তার প্রস্তাব পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।