ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বাড়তে থাকায় ইরাকের বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ফিফার কাছে তাদের বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচের নতুন সময় নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া পুরুষ জাতীয় দলের সাবেক কোচ আর্নল্ড চান, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা যেন ইরাকের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে।
‘মেসোপটেমিয়ার সিংহ’ নামে পরিচিত ইরাক আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মন্টেরেতে প্লে-অফ ম্যাচে সুরিনাম ও বলিভিয়ার মধ্যকার বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে। ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২৩ মার্চ শুরু হওয়া কথা।
এই ম্যাচের ফলেই নির্ধারিত হবে ইরাক ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না।
কিছু অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ায় ইরাকের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইরাকের আকাশসীমা ১ এপ্রিলের আগে খোলার কথা নয়, যা তাদের নির্ধারিত ম্যাচের একদিন পর।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান এসোসিয়েসেট প্রেসকে আর্নল্ড বলেন, ‘‘দয়া করে এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের সাহায্য করুন। কারণ এখন আমরা ইরাক থেকে আমাদের খেলোয়াড়দের বের করতেই হিমশিম খাচ্ছি।”
আর্নল্ডের প্রথম পছন্দের দলে প্রায় ৬০ শতাংশ খেলোয়াড় ইরাকের ঘরোয়া লিগ থেকে আসা। কিন্তু আকাশপথ বন্ধ থাকায় তারা দেশ ছাড়তে পারছেন না। কোচিং স্টাফের অনেকেই আটকে আছেন, যার মধ্যে সাবেক সিডনি এফসির উইঙ্গার ও দোভাষী আলি আব্বাস-ও রয়েছেন।
হিউস্টনে পরিকল্পিত প্রাক-ম্যাচ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ইতোমধ্যে স্থগিত হয়েছে। ভিসা ও ভ্রমণ অনিশ্চয়তা আর্নল্ডের প্রস্তুতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
আর্নল্ড বলেন, “আমার মতে ফিফা যদি ম্যাচটি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা সঠিকভাবে প্রস্তুতির সময় পাব।”
তিনি বলেন, এই মাসে বলিভিয়া ও সুরিনাম ম্যাচ খেলুক, আর বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রে ইরাক তাদের মুখোমুখি হোক।
তিনি আরও বলেন, এতে ফিফারও সময় মিলবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি না। যদি ইরান সরে দাঁড়ায় তাহলে ইরাক সরাসরি বিশ্বকাপে যেতে পারে এবং বাছাইপর্বে ইরাকের কাছে হারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামনে সুযোগ আসতে পারে।
এদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বৈশ্বিক ফুটবলার সংগঠন ফিফপ্রো।
ফিফপ্রোর মহাসচিব অ্যালেক্স ফিলিপস বলেন, ম্যাচ হবে কি না তা নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব কি না তার ওপর।
যদি ফিফা দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে এত অল্প সময়ে খেলোয়াড় ও স্টাফদের ইরাক থেকে বের করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আর্নল্ড।
ইরাকের কিছু ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচও ইতোমধ্যে প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষ করে এরবিল শহরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সেখানকার পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
৬২ বছর বয়সী আর্নল্ড বলেন, কেবল বিদেশে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “এটা আমাদের সেরা দল হবে না। অথচ ৪০ বছরে দেশের সবচেয়ে বড় ম্যাচে আমাদের সেরা দলটাই দরকার।”