দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক আজ শনিবার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক হলে ‘ভালো’ হবে বা এই বৈঠক ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে শীর্ষ বৈঠক, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও এতে খুব একটা উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পিয়ং ইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আবার শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ বছরের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে, যা ট্রাম্পের এপ্রিল মাসে বেইজিং সফরের সময় অনুষ্ঠিত হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর কিম মিন-সিওক বলেন, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
ট্রাম্প সিওককে জানিয়েছেন যে (কিম জং উনের) সঙ্গে তার বৈঠক হলে ভালো হবে। বৈঠক করা সত্যিই ভালো হবে। তবে এটা যখন আমরা এবার চীনে যাব তখন হতে পারে, অথবা নাও হতে পারে, অথবা এমনকি পরেও হতে পারে।
সিওক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি ও ট্রাম্প একমত হয়েছেন যে যদি কিম জং উনের সঙ্গে ‘শীঘ্রই বা চীন সফরের সময়ে’ বৈঠক হয়, তাহলে তা অর্থপূর্ণ হবে।’
তিনি আরও বলেন, কিন্তু তা না হলেও, মূল বিষয় হলো সংলাপ বা যোগাযোগ হওয়া। এই বিষয়ে ট্রাম্প দৃঢ় বলে মনে হচ্ছে।’
ট্রাম্প অক্টোবর মাসে এশিয়া সফরের সময় বলেছিলেন যে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ‘শতভাগ’ প্রস্তুত রয়েছেন।
তবে ওই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি উত্তর কোরিয়া।
কয়েক মাস ধরে এই প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার পর, কিম জং উন সম্প্রতি বলেন, ‘ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অবস্থান মেনে নিলে, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।’
উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানোর আশাও ভেঙে দিয়েছে।
তারা তাদের সর্বশেষ শান্তি প্রচেষ্টাকে ‘অসাধু, প্রতারণামূলক প্রহসন’ বলে বর্ণনা করেছে।
রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদারকারী পারমাণবিক অস্ত্রধারী পিয়ংইয়ং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলাকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।