১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, উচ্ছ্বসিত দ্বীপবাসী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১৭ অপরাহ্ণ   |   ৬৪ বার পঠিত
১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন, উচ্ছ্বসিত দ্বীপবাসী

মঈনুদ্দিন শাহীন (কক্সবাজার):



আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাস দ্বীপটিতে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত দ্বীপের বাসিন্দারা। পর্যটন মৌসুমে আয়-রোজগার বাড়ার পাশাপাশি কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।

 

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ সময়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, নভেম্বরের শুরু থেকে কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি পরিপত্র পেয়েছেন তারা। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

দ্বীপের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, “আমরা খুব খুশি। আগামী মাস থেকে দ্বীপবাসীর কর্মব্যস্ততা শুরু হবে। অনেকের আয়-রোজগারও বাড়বে।”
 

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপ উন্মুক্ত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা আনন্দিত। এতে দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট অনেকটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, এখানকার মানুষের জীবিকা মূলত পর্যটনকেন্দ্রিক।
 

তিনি বলেন, গত দুই বছর পর্যটন ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় দ্বীপের মানুষকে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এবার সরকার বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করায় দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
 

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 

সংশ্লিষ্টদের আশা, পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহন ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে গতি ফিরবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটন পরিচালনা করা গেলে দ্বীপের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ—দুটিই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।