বিপিসি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বাজারে গুজব এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাপনার নজরদারি আরও নিবিড় করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি মনিটরিং সেল এবং দেশের পাঁচটি অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব সেল সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় সেলে তথ্য পাঠাবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেলগুলো প্রতিদিন তাদের অধীনস্থ ডিপোগুলোর মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। এতে ডিপোর স্থলভাগের সংরক্ষণ ট্যাংকে থাকা জ্বালানি এবং জাহাজে থাকা ভাসমান মজুদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া কত পরিমাণ জ্বালানি ডিপো থেকে বিভিন্ন ডিলার ও এজেন্টের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং খুচরা পর্যায়ে বিক্রির তথ্যও কেন্দ্রীয় সেলে পাঠানো হবে।
কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল এসব তথ্য সমন্বয় করে সার্বিক মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রতিবেদন তৈরি করবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।
চলমান কৃষি সেচ মৌসুমে ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেলগুলো থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদেরও নিয়মিত তথ্য পাঠানো হবে। এতে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনে দ্রুত বাজার পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
জ্বালানি তেলের মজুদ, বিতরণ, পাচার বা ভেজাল সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল সেলকে জানানো যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
বিপিসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল চট্টগ্রামের সল্টগোলা রোডে অবস্থিত বিএসসি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। সেলের মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এ কে এম ফজলুল হক। পাশাপাশি বিপিসির বণ্টন ও বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন।
দেশের পাঁচটি অঞ্চলে আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা, বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল। ঢাকা অঞ্চলের সেল স্থাপিত হয়েছে মতিঝিলের মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে। বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলের সেল যথাক্রমে উপশহর, খালিশপুর, শাহজালাল উপশহর এবং বান্দরোডে স্থাপন করা হয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের কাছে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্য থাকবে। ফলে গুজব, কৃত্রিম সংকট বা মজুদদারির মতো পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারি জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে এবং দেশের বাজারে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।