প্রধানমন্ত্রীর জন্যও প্রথম সংসদ জামায়াতের আমিরসহ ২২৫ জন সংসদ সদস্য নতুন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১২ মার্চ ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ণ   |   ৪২ বার পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর জন্যও প্রথম সংসদ জামায়াতের আমিরসহ ২২৫ জন সংসদ সদস্য নতুন

তারেক রহমান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য (এমপি) হয়েছেন। প্রথম এমপি হয়েই প্রধানমন্ত্রী। সেই পটভূমিতে সংসদ নেতা হিসেবে প্রথমবার জাতীয় সংসদে পা রাখছেন। আজ বৃহস্পতিবার বসছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। 

এরই মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুনত্ব এনেছেন তিনি। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের সরকারপ্রধান হয়েছেন তারেক রহমান। এর আগে তাঁর মা খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রথমবার এমপি হয়েই প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। রাজধানীর একজন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনাও এবার প্রথম। শুধু সরকারপ্রধানই নন, বিরোধী দল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ ২২৫ জন এমপি নতুন। 

 

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেন তারেক রহমান। বিএনপির দলীয় ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমান রাজপথের আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। তৃণমূল থেকে জনগণকে সংগঠিত করেছিলেন এবং এরশাদ সরকারের পতনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণায় অংশ নেন। 

 

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া থেকে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে নেপথ্যে ছিলেন তারেক রহমান। এমনকি ওই সময়ের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। 

 

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি দলকে সংগঠিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে দলের সম্মেলন করে রাজনীতির মাঠে প্রকাশ্যে আলোচনায় আসেন তারেক রহমান। সাংগঠনিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি তাঁকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে।

 

২০০৭ সালে নবম সংসদের তপশিল ঘোষণা করলে তিনি বগুড়ার একটি আসন থেকে প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ওই বছরের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়ে যায়। ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ওই সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান তিনি। লন্ডনে থাকা অবস্থায় ২০০৯ সালে দলের কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ধীরে ধীরে বিএনপির পুনর্গঠনে যুক্ত হন। গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে লন্ডন থেকে দেশের মাটিতে ফেরেন।

 

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হন। অভিষিক্ত হয়ে তাঁর নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিএনপিও তাঁকে একক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। দীর্ঘ দুই দশক পর সরকারে ফেরে বিএনপি।