সাজেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সাজেকেও টানা তৃতীয় দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি, মামলা প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হয়। অবরোধের কারণে রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও রাঙামাটি শহরের অভ্যন্তরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
অবরোধ চলাকালে সকালে বেতবুনিয়া এলাকায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন আন্দোলনকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অন্যদিকে, রাঙামাটি-নানিয়ারচর-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের খামারপাড়া ও আবাসিক এলাকায় গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিলও করেন আন্দোলনকারীরা।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গত ২২ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা; গোলাগুলির ঘটনা সাজিয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার; ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজো বাজারে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান; এবং উজো বাজার থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া।
এ ছাড়া আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএসের সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করা এবং তাঁদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি না চালানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, উজো বাজার এলাকা এখনো দিন-রাত ঘেরাও করে রাখা হয়েছে এবং সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাজারের দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাটের পাশাপাশি লুট করা মালামাল গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। অত্যাচারের ভয়ে উজো বাজার এলাকা থেকে শতাধিক পরিবার নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
রাঙামাটিতে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তপন চাকমা বলেন, সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন চলাকালে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা অর্ধদিবসের অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হলেও কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিয়েছে। সাজেকে গোলাগুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাণ্ডব তাঁরা চান না।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর আবারও হামলা-মামলা হলে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
এদিকে, সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি জোরদার ছিল। তবে যানবাহন চলাচল করেনি এবং কোথাও পিকেটিংয়ের ঘটনা ঘটেনি।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দীন বলেন, রাঙামাটিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হয়েছে এবং কোথাও সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ও নৌপথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল এবং ওই সড়কের কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীরা পিকেটিং করেছেন।