আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৬ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ   |   ৫২ বার পঠিত
আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। শেষ মুহূর্তের ভিড়, যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই সরকারি ছুটির আগেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।

 

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে পরিবারসহ বাড়ি ফেরা যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে যাত্রা করছেন এমন পরিবারের সংখ্যাই বেশি।

 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদযাত্রা উপলক্ষে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলাচল শুরু করেছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের চাপ থাকলেও এখন পর্যন্ত ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের সুবিধা থাকায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষাও করতে হচ্ছে না।

 

এদিকে বাস টার্মিনালগুলোতেও যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোই মূলত আগে ঢাকা ছাড়ছেন। গাবতলী ও সায়েদাবাদে বাসের টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যাত্রীচাপ আরও বাড়তে পারে।

 

যাত্রীদের অনেকেই জানান, ঈদের ঠিক দুই-তিন দিন আগে মহাসড়কে তীব্র যানজট এবং টিকিট সংকট তৈরি হয়। সেই ভোগান্তি এড়াতেই অনেক পরিবার আগেভাগে যাত্রা শুরু করেছে।

 

মহাখালী বাস টার্মিনালে অপেক্ষারত যাত্রী সাহেদ আলী বলেন, “ঈদের আগের দিনগুলোতে বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই আগে থেকেই বাড়ির পথে রওনা হলাম।”

 

তবে কিছু যাত্রী বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। যদিও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনের আনন্দে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

 

এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করছেন।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের উপস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার পর পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করছেন নগরবাসী।

 

অন্যদিকে সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে তুলনামূলক কম ভিড় দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়েই ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে যাত্রা করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।