নিহত কাজী ইউসুফ হোসেন উপজেলার কনকাপৈত গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী সংগীতশিল্পী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার কনকাপৈত স্কুল মাঠে ট্রাক্টর থেকে বালু ওঠানো-নামানোকে কেন্দ্র করে ইউসুফের সঙ্গে আমজাদের বাজারের ফারিহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদের প্রতিষ্ঠানের এক ট্রাক্টরচালকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় আবুল কালাম আজাদ ইউসুফকে আমজাদের বাজার এলাকায় যেতে নিষেধ করেন এবং তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে ইউসুফ আমজাদের বাজারে গেলে আবুল কালাম আজাদের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত কয়েকজন তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করলেও হামলা ঠেকাতে পারেননি।
পরে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউসুফকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ইউসুফ হোসেনকে হাসপাতালে আনার পর তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন দেখা যায়। এ কারণে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লায় পাঠানো হয়। পরে কুমিল্লায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর লোকজন আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, কাজী ইউসুফ হোসেন তাঁদের দলের কর্মী ছিলেন। প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সেখানে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।