এসেছে। সোমবার সকাল ১১টার পর ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে চার্জ গঠনের শুনানির জন্য মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে হাজির করা হয়।
এ সময় আদালতে প্রবেশের মুখে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ‘ডলার’ নামের এক তৃতীয় ব্যক্তির জড়িত থাকার দাবি তুলে শোরগোল ফেলে দেয় প্রধান আসামি সোহেল।
আদালত প্রাঙ্গণে সোহেল রানা চিৎকার করে বলতে থাকে, সে একাই এই অপরাধে জড়িত নয় এবং তার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। তার দাবি, মিরপুর ১১ নম্বরের এক প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তি ‘ডলার’ তাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিল এবং সেই-ই শিশুটিকে হত্যা করেছে; সোহেল নিজে শুধু ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল।
ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই তার জবানবন্দি লিখে নেওয়া হয়েছে বলেও সে অভিযোগ তোলে। এর আগে সকাল পৌনে ৮টায় সোহেলকে কেরানীগঞ্জ এবং স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে এনে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে আদালতে যে চার্জশিট জমা দিয়েছিলেন, তাতে অবশ্য সোহেলের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অপরাধে সহযোগিতার প্রমাণ মেলার কথা বলা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর দ্রুততম সময়ে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ টেস্ট ও তা আদালতে আমলে নেওয়ার মতো প্রধান চারটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু জানান, ট্রাইব্যুনালের অধীনে মামলাটি যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, জেলা লিগ্যাল এইডের আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালতে বিচার দ্রুত শেষ হলেও আসল চ্যালেঞ্জ থাকে উচ্চ আদালতে রায় কার্যকর করা নিয়ে। প্রধান বিচারপতি ও কারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ তদারকি না থাকলে ডেথ রেফারেন্সসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মামলার নথির বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার তাকে ফুঁসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ওই ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর তার কাটা মাথা দেখতে পান। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়া সোহেল রানাকে পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।